হাড়িভাঙ্গা আমের দামে ধস লকডাউনে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণায় রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আমের দামে ধস নামতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছে আম ব্যবসায়ীরা। আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন. লকডাউনের ঘোষণায় গত ২-৩ দিনের ব্যবধানে আমের দাম অনেক কমেছেলকডাউনে।

দুরপাল্লার বাস, ট্রেনসহ ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরের জেলা রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জে প্রসিদ্ধ হাঁড়িভাঙ্গা আমের দাম পড়ে যাচ্ছে। বিগত বছরে মৌসুমের শুরুতে যেখানে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা প্রতিমণ আম বিক্রি হয়। এবারে শুরুতে বাজার ভালো থাকলেও পরবর্তীতে লকডাউনের প্রভাবে দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অনলাইনে আম বিক্রির একটা ক্ষেত্র থাকলেও কুড়িয়ার সার্ভিসে কেজিতে ১৫-১৮ টাকা চার্জ দিতে হচ্ছে। ফলে অনলাইনেও আম কেনার অর্ডার দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। সরকারিভাবে ডাকযোগে স্বল্পমূল্যে আম পাঠানোর ব্যবস্থা করার দাবি করেন তারা।

সোমবার (২৮ জুন) পদাগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ক্যারেটে থরে থরে সাজানো হাঁড়িভাঙ্গা আম। ক্রেতার অভাবে আম নিয়ে অপেক্ষায় দিন পার করছে অনেক চাষি। এই বাজারে পাইকারি ২০-২৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পদাগঞ্জের হাটে কথা হয় আম চাষি হাছিম আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে কয়েক মাসের জমানো টাকা আর এনজিও থেকে লোন নিয়ে আড়াই একর জমিতে আম চাষ করি। গতবার করোনার কারণে শুধু খরচের টাকা উঠাতে পারি। এবারও অনেক আশা ছিল কিন্তু লকডাউনের কারণে দূর থেকে পাইকাররা আসছে না। খুচরা আর কয় মণ বিক্রি হয়! জানি না এবার মূলধন উদ্ধার হবে কি না?’

রংপুরের আম ব্যবসায়ী সাকিব হাসান বলেন, ‘গত বছর চলতি মৌসুমে প্রতিমণ আম ঢাকায় বিক্রি করেছি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এবারে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৮০০ টাকায়। পাকা আমের চাহিদা কম। তার উপর কুরিয়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত চার্জ। আর ১০-১৫ দিন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলে লোকসান থেকে রক্ষা পেতো আম ব্যবসায়ীরা।’

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে সব জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে রয়েছে হাড়িভাঙ্গা আম। জেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৮৩৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন।

হাঁড়িভাঙ্গা আমের মাতৃগাছের জনক মৃত নফল উদ্দিনের ছেলে খোড়াগাছা ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের আম চাষি আমজাদ হোসেন বলেন, করোনার কারণে গত বছর লোকসান হয়। এবারের পরিস্থিতি আরও খারাপ। যারা বাগানে আম কিনেছেন, লোকসানের কারণে এখন আর কেউ আম ছিড়তে আসছেন না। ফলে গাছেই আম পেকে নষ্টের উপক্রম হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল রাইজিংবিডিকে বলেন, লকডাউনে পণ্য পরিবহন বন্ধ করেনি সরকার। হাড়িভাঙ্গা আমের দাম লকডাউনের প্রভাবে কিছুটা কমে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই আমের বৃহৎ অংশ যেতো ঢাকায়, সেটি আর নিয়ে যাচ্ছে না পাইকাররা। লকডাউনের ঘোষণায় ঢাকা থেকে লোকজন বাড়ি ফিরছে, তাই কম ভোক্তার বাজারে লোকসানের আশঙ্কায় আম কম নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে কৃষক বা ব্যবসায়ীরা যাতে আম বাজারজাত নির্বিঘ্নে করতে পারে, সেই ব্যাপারে জেলা প্রশাসনে মাধ্যমে আম বাসের ব্যবস্থা করেছি।’

Mahfuz Mia

মাহফুজ মিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট পড়ালেখা ২৪.কম এর প্রতিষ্ঠাতা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Back to top button