তিস্তার তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি ।

রংপুরে তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে। এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তিস্তা ব্যারেজের ৬৫ কিলোমিটার উজানে ভারত গজলডোবা ব্যারেজ খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী পাড়ের গ্রামে অকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, নদীর তীরবর্তী ছোট ছোট কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমে পানি কমতে শুরু করে। বর্ষার শুরুতে বাড়ির উঠানে হঠাৎ হাঁটুপানি দেখে ঘরবাড়ি ছেড়ে বেড়িবাঁধসহ রাস্তায় আশ্রায় নিচ্ছে কিছু পরিবার।

এ ছাড়া ভাঙনে সেখানকার বিনবিনা চরের ৮টি পরিবারের বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হুমকিতে পড়েছে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট। সরেজিমন দেখা গেছে, পানিবন্দি পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকে উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ঘরের বিছানার ওপরে জিনিসপত্র রেখে আকড়ে ধরে রেখেছেন বসতবাড়ি।

দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দি মানুষজন ও গবাদিপশুর। কোথাও কোমরপানি, আবার কোথাও হাঁটুপানি। ছোট নৌকা ও বাঁশের ভেলায় ব্যবহার করে চলাচল করছেন লোকজন। লক্ষীটারি ইউনিয়নের পূর্ব ইচলি গ্রামের বিধবা আছমা বেগম মেয়ে ও নাতি-নাতনিকে নিয়ে ঘরের জিনিসপত্র রাস্তায় সরিয়ে নেওয়ার সময় কথা হয়। আছমা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা আসলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। অভাবের সংসারে এভাবে সরাসরিতে ক্ষতিগ্রস্ত তিনি। তিস্তায় স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধের দাবি করেন তিনি।

একই এলাকার মহুবার বলেন, গত তিন বছরে তিনবার বাড়ি ভেঙে নিয়ে। সর্বশেষ এবার রাস্তায় অবস্থান করতে হচ্ছে ছেলে-মেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে। সরকার কী তাদের এই কষ্টের চিত্র দেখেন বলে তার আক্ষেপ। আকলিমা, মহুবারের মতো জামাল ও আলী আজগরসহ ওই এলাকার ১৫-২০টি পরিবারকে ঘরের আসবাবপত্র রাস্তায় নিতে দেখা যায়। পরিবারগুলো জানায়, হঠাৎ পানি বাড়ায় তাদের ফসলের ক্ষেত ডুবে গেছে এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

পানিবন্দি লক্ষীটারী ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলি, শংকরদহ, বাগেরহাট আশ্রয়ণ, পূর্ব ও পশ্চিম ইচলির ৪-৫টি গ্রামের কমপক্ষে এক হাজার পরিবার। কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা, মটুকপুর, চিলাখাল, খলাইরচরে একই অবস্থা। সেখানে অন্তত দুই হাজার পরিবার হাঁটু ও কোমড় পানিতে রয়েছেন।

একই অবস্থা গজঘণ্টা ইউনিয়নের কালিরচর, ছালাপাক, গাউছিয়া বাজার, জয়দেব, মইশাসুর, রামদেব চর ও আলমবিদিতর এবং গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের আরও এক হাজারের বেশি পরিবারের। তিস্তায় পানি বাড়ার কথা জানিয়ে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তার ইউনিয়নে হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসলীমা বেগম জানান, উপজেলার নোহালী, লক্ষ্মীটারি, গজঘণ্টা ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে এবং সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সেখানকার পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পাঠানো হয়েছে। পাউবো (উত্তর অঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী জ্যেতিপ্রকাশ ঘোষ বলেন, গত বন্যায় দুর্বল বাঁধগুলোতে ৭০ কোটি টাকা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ভাঙন এলাকায় জিওব্যাগের মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

Mahfuz Mia

মাহফুজ মিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট পড়ালেখা ২৪.কম এর প্রতিষ্ঠাতা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Back to top button