কাজ নেই, তাই সড়ক লোকে লোকারণ্য লকডাউনে।

চলমান লকডাউনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের কারণে খুলনা শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু অলিগলি ও পাড়া-মহল্লার সড়ক লোকে লোকারণ্য।

অলিগলির এসব সড়কে কিশোর ও উঠতি বয়সি তরুণদের আড্ডা চলছে যত্রতত্র।  বয়স্করাও ঘরে থাকছেন না।  তারা গালগল্পে মেতে উঠছেন। যেন মানুষে মানুষে ঠাসাঠাসি, নেই শারীরিক দুরত্বের বালাই।  শনিবার (২৬ জুন) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

লকডাউনে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ ছোট-খাট যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও লোকজন আসা যাওয়া করছে।

সচেতন মহল বলছেন, গলির আড্ডায় লাগাম নেই। নগরীর বিভিন্ন অলি-গলি ও মহল্লা লোকে লোকারণ্য।  দোকান, বাজারে রয়েছে সর্বত্র ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ। সড়কে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের কারণে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও অলিগলিতে যেভাবে আড্ডা, খোশগল্প চলছে। এতে লকডাউন কোন উপকার আসবে না।

নগরীর গোবরচাকা মধ্যপাড়ায় গলির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছেন উঠতি বয়সী যুবকের পাশাপাশি বয়স্করাও। কেউ দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছেন, কেউ বা গলির মধ্যে খোশগল্পে মেতে আছেন। অধিকাংশরই মুখে  মাস্ক নেই।

নগরীর সদর হাসপাতালের গলির ভেতরে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন যুবক। জানতে চাইলে বলেন, ঘরে আর কতক্ষণ। চা খেয়ে বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দেবো। তারপর বাসায় চলে যাবো।

নগরীর মৌলভী পাড়ায় গলির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো চার কিশোর। তাদের সবাই এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কিন্তু করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষা নিয়ে চলছিলো তাদের আড্ডা। এদের একজন সাব্বির বললো আসলে ঘরে বসে থাকতে থাকতে বোর হয়ে গেছি। এ সময় পরীক্ষার পড়াও পড়তে ইচ্ছা করছে না। কারণ, পরীক্ষা কবে হবে তার কোনো ঠিক নেই।

একই চিত্র দেখা গেলো নগরীর গাবতলা মোড়ে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকানে দেখা গেলো বেশ ভিড়। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায় তিনজনকে। আরেকটু সামনেও চারজনের আরেকটি দলকে আড্ডা দিতে দেখা যায়।

অনেকে বলছেন, দিনের বেলায় কঠোরভাবে লকডাউন আর রাতের বেলায় দেখা যাচ্ছে চেকপোস্ট নেই, আবার চেকপোস্ট থাকলেও পুলিশের নেই তেমন তৎপরতা।

প্রশ্ন তুলে আমিরুল নামের একজন বলেন, লকডাউন কি শুধু দিনের জন্য, রাতের জন্য না? অফিস বন্ধ, গাড়ি চলাচল বন্ধ। কেউই খুলনার বাইরে যেতে পারবে না, আর শহরের বাইরে থেকেও কেউ আসতে পারবে না। কিন্তু এখন গণপরিবহন বন্ধ আর অফিস খোলা।

বিষয়টি স্বীকার করে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হলে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবিরাম পরিশ্রম করছেন, জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও লোকজন ঠেকানো যাচ্ছে না। পুলিশ চলে গেলেই তারা আবার আড্ডায় মেতে উঠছেন। তবে, এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Mahfuz Mia

মাহফুজ মিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট পড়ালেখা ২৪.কম এর প্রতিষ্ঠাতা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Back to top button